
বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ ও প্রণোদনা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বাধা না থাকলেও দেশের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত কৃষকদের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয় বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কৃষি উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। বুধবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত ‘ট্রান্সফর্মিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার: আউটলুক ২০৫০’ শীর্ষক এক কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
বৈষম্যের চিত্র: শিল্প বনাম কৃষি
উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, শিল্প মালিকরা ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে অনেক সময় পরিশোধ করেন না, অথচ কৃষকরা ঋণের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তা পান না। তিনি উল্লেখ করেন, শিল্পপতিরা মাত্র ২ শতাংশ সুদে ব্যাংক ঋণ পান এবং নানা ওয়েভার ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন। কিন্তু কৃষকদের ক্ষেত্রে এমন সুযোগ সীমিত।
তিনি বলেন, “আমরা মুখে বলি কৃষক দেশের মেরুদণ্ড, কিন্তু কাজে তার প্রতিফলন নেই। কৃষকরা কঠোর পরিশ্রম করে ফসল ফলিয়েও ন্যায্যমূল্য পান না। অনেক সময় লোকসান সইতে না পেরে তারা ফসল রাস্তায় ফেলে দিতে বাধ্য হন।”
আলু চাষিদের প্রণোদনা নিয়ে সংকট
গত মৌসুমে আলুর দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের যে বড় ধরনের লোকসান হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে সরকারের প্রতিশ্রুত প্রণোদনা দিতেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ মৌসুমে ক্ষতিগ্রস্ত আলু চাষিদের জন্য ১৫০ কোটি টাকা ভর্তুকির পাশাপাশি অতিরিক্ত ১১০ কোটি টাকা নগদ প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল কৃষি মন্ত্রণালয়। তবে চলতি মৌসুমে আগাম জাতের আলু তোলা শুরু হলেও সেই প্রণোদনা এখনো কৃষকদের হাতে পৌঁছায়নি।
গত ২৫ জানুয়ারি এক অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন, গত মৌসুমের উদ্বৃত্ত উৎপাদনের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদের নগদ সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তবে আজকের বক্তব্যে তিনি এই সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘বাধা’ গুলোর প্রতি ইঙ্গিত করেন।
টেকসই কৃষির পথে চ্যালেঞ্জ
উপদেষ্টা বলেন, “কৃষক না বাঁচলে দেশ বাঁচবে না। দেশের উন্নয়নের জন্য কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা অপরিহার্য।” তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির খবর কেবল এক-দুই দিনের জন্য প্রকাশ না করে নিয়মিত তুলে ধরতে, যাতে সরকার ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে টনক নড়ে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় কৃষি খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ ও ২০৫০ সাল নাগাদ আধুনিক কৃষি ব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

