Friday, 25 September, 2026

পাবনার শিম চাষিদের মাথায় হাত: অতিবৃষ্টি ও ভাইরাস আক্রমণে ফলন বিপর্যয়


দেশের অন্যতম প্রধান শিম উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা। প্রায় ৩০ বছর ধরে এখানে বাণিজ্যিকভাবে শিম চাষ হচ্ছে। তবে, শিম সাধারণত শীতকালীন সবজি হলেও এখানকার কৃষকরা গত এক যুগ ধরে আগাম জাতের শিম চাষ করে আসছেন এবং প্রতি বছরই লাভবান হচ্ছেন। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। অতিবৃষ্টির কারণে শিম ক্ষেতে হলুদ মোজাইক নামের এক ধরনের ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। এর পাশাপাশি সাদা মাছি ও জাব পোকার উপদ্রবও বেড়েছে। ফলে যে কৃষকরা লাভের স্বপ্ন দেখছিলেন, তারা এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

অতিবৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি:

আষাঢ় মাসে আগাম শিমের আবাদ শুরু হয়, আর এবার শুরুতেই দফায় দফায় বৃষ্টির শিকার হন কৃষকরা। শিম ক্ষেতে পানি জমে গাছের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ায় ভাইরাস ও পচন ধরেছে। গাছের পাতা বাদামি ও হলুদ হয়ে ঝরে পড়ছে, আর লতা-ডগা কুঁকড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে আক্রান্ত লতা-পাতা কেটে ফেলছেন। অনেক ক্ষেতে ফুল এলেও অতিবৃষ্টিতে তা ঝরে যাচ্ছে। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কীটনাশক ব্যবহার করেও সুফল মিলছে না। শ্রাবণের শেষ সপ্তাহ থেকে বাজারে আগাম শিম বিক্রি শুরু হলেও ফলন বিপর্যয়ের কারণে বিঘাপ্রতি মাত্র ৮-১০ কেজি শিম উঠছে, যা গত বছরের তুলনায় অনেক কম। সাধারণত এ সময় প্রতিদিন ৩০-৪০ কেজি শিম তোলা যেত।

আরো পড়ুন
পুষ্টিগুণে অনন্য ‘ব্রকলি’: সঠিক চাষ পদ্ধতি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ব্রকলি চাষের সঠিক ও আধুনিক পদ্ধতি

বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম ‘ব্রকলি’। দেখতে সবুজ ফুলকপির মতো এই সবজিটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন এবং সুস্বাদু। একসময় ব্রকলি কেবল Read more

তীব্র সার সংকট, পথ অবরোধ, তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরে রেকর্ড আগাম চাষাবাদ

চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে প্রধান প্রধান নদ-নদীতে বড় ধরনের কোনো বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়নি। Read more

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কথা:

ঈশ্বরদীর রামনাথপুর, বেতবাড়িয়া, শেখপাড়া, মুলাডুলি, ফরিদপুরসহ কয়েকটি গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বেশিরভাগ শিম ক্ষেত ফুলে ভরে থাকলেও ফলন খুবই কম। বাঘহাছলা গ্রামের কৃষক মফিজ উদ্দিন শেখ জানান, ভাইরাসের কারণে তারা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ওষুধ কোম্পানির দেওয়া কীটনাশক তেমন কাজ করছে না। একই গ্রামের হাবিবুর রহমান বলেন, এই রোগের কারণে ফলন কম হবে এবং ভবিষ্যতে শিম বিক্রি করা কঠিন হয়ে যেতে পারে। আরেক কৃষক রায়হান আলী কীটনাশক স্প্রে করেও কোনো লাভ হচ্ছে না বলে জানান।

পাবনার শিম ক্ষেতে ভাইরাস, ফলন কমে গেছে

কৃষি বিভাগের পরামর্শ:

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবার ঈশ্বরদীতে ১ হাজার ২৯০ হেক্টর জমিতে শিম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, যার মধ্যে আগাম জাতের অটোশিম চাষ হয়েছে ৮৯০ হেক্টর জমিতে। মুলাডুলি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রুমানা পারভীন জানান, অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকরা সময়মতো গাছের পরিচর্যা করতে পারেননি। তিনি বলেন, সাদা মাছি ও জাব পোকা কীটনাশক দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ভাইরাস আক্রান্ত হলে গাছ উপড়ে ফেলতে বা ডগা ও পাতা কেটে ফেলতে হবে। ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন আশা প্রকাশ করে বলেন, বৃষ্টি কমে গেলে কৃষকরা আবার লাভবান হবেন।

0 comments on “পাবনার শিম চাষিদের মাথায় হাত: অতিবৃষ্টি ও ভাইরাস আক্রমণে ফলন বিপর্যয়”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ