আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান জেলা গাইবান্ধায় কোরবানির পশুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। তবে পশুখাদ্যের চড়া দাম এবং উৎপাদন খরচ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত লাভ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় খামারি ও প্রান্তিক খামারিরা। এরই মধ্যে খামারিদের পক্ষ থেকে কোরবানি মৌসুমে সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
চাহিদার চেয়ে ২৯ হাজার পশু উদ্বৃত্ত
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় গবাদিপশুর কোনো ঘাটতি নেই; বরং চাহিদার চেয়ে সরবরাহ অনেক বেশি।
জেলায় প্রস্তুতকৃত পশুর সংখ্যা: ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৩টি।
স্থানীয় পশুর চাহিদা: ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০টি।
উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা: ২৯ হাজার ৮৬৭টি।
খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে খড়, খৈল, ভুষিসহ পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে পশুগুলো মোটাতাজা করেছেন। কিন্তু বাজারে গোখাদ্যের লাগামহীন দাম তাদের হিসাব-নিকাশ ওলটপালট করে দিয়েছে। খামারিরা জানান, আগে যে গোখাদ্য ৪০ টাকায় কেনা যেত, এখন তা ৬০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ২০ টাকার পণ্য কিনতে হচ্ছে ৩০ টাকায়
প্রস্তুত হচ্ছে ৩২টি পশুর হাট
কোরবানির পশু কেনাবেচার জন্য গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় মোট ৩২টি হাট নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্থায়ী হাট ১৯টি এবং অস্থায়ী হাট ১৩টি। এছাড়া প্রথাগত হাটের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা অনলাইনেও প্রচুর পশু কেনাবেচা হবে।
সম্প্রতি জেলার ঐতিহ্যবাহী দাঁড়িয়েপুর, লক্ষ্মীপুর, সাদুল্লাপুর, ধাপেরহাট, মাঠেরহাট ও ভরতখালীসহ বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, বাঁশ-খুঁটি দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরির কাজ চলছে। হাট ইজারাদারদের মতে, আর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই বাজার পুরোদমে জমে উঠবে।
স্টেরয়েড ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ও হিটস্ট্রোকের শঙ্কা
গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুণ কুমার দত্ত জানান, এবার শুধু সদর উপজেলাতেই ৩১ হাজার ২১১টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তিনি বলেন:
“খামারিদের স্পষ্ট সতর্ক করা হয়েছে, তারা যেন পশুকে মোটাতাজা করার জন্য কোনো ধরনের স্টেরয়েড বা হরমোনজাতীয় ওষুধ প্রয়োগ না করেন। এছাড়া চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে পশু যেন হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত না হয়, সেজন্য প্রাণিসম্পদ বিভাগ সার্বক্ষণিক মাঠে থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে।”
সীমান্ত বাণিজ্যে খামারিদের শঙ্কা
খামারিদের বড় ভয় এখন ভারতীয় গরুর অনুপ্রবেশ। তারা আশঙ্কা করছেন, এই মুহূর্তে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে স্থানীয় পশুর বাজার ধসে পড়বে। এতে বিপুল পরিমাণ লোকসানের মুখে পড়বেন দেশীয় খামারিরা।
গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন:
“খামারিরা যাতে তাদের পশুর সঠিক ও ভালো দাম পান, সে বিষয়ে আমাদের সর্বাত্মক চেষ্টা ও নজরদারি রয়েছে। পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সহায়তায় এবং পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আমাদের ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে।”
এক নজরে গাইবান্ধার কোরবানির বাজার ২০২৬:
| বিষয়ের নাম | পরিসংখ্যান / তথ্য |
| মোট প্রস্তুতকৃত পশু | ১,৭৬,০৩৩টি |
| পশুর মোট চাহিদা | ১,৩৭,৫০০টি |
| পশুর হাট (স্থায়ী ও অস্থায়ী) | ৩২টি |
| সদর উপজেলার পশু | ৩১,২১১টি |
| প্রধান সংকট | গোখাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভারতীয় গরুর শঙ্কা। |

