চিংড়ি চাষের মূল ঘেরে পোনা ছাড়ার আগে নার্সারি বা আতুর পুকুরে লালন-পালন করা অত্যন্ত লাভজনক। এতে পোনার মৃত্যুহার কমে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
নিচে আপনার প্রশ্নের উত্তরগুলো বিস্তারিত দেওয়া হলো:
১. চিংড়ি নার্সারির আদর্শ আকার ও গঠন
নার্সারি পুকুর খুব বেশি বড় হওয়া উচিত নয়, কারণ ছোট জায়গায় পোনার যত্ন নেওয়া ও খাবার দেওয়া সহজ হয়।
আয়তন: সাধারণত ৩ থেকে ১০ শতাংশ আয়তনের পুকুর নার্সারির জন্য আদর্শ।
গভীরতা: পানির গভীরতা ২.৫ থেকে ৩.৫ ফুট হওয়া উচিত। খুব বেশি গভীর হলে তলায় অক্সিজেনের অভাব হতে পারে।
আকার: চারকোনা বা আয়তাকার পুকুর ব্যবস্থাপনা ও জাল টানার জন্য সুবিধাজনক।
সুরক্ষা: নার্সারির চারপাশ নাইলন নেট (বানা) দিয়ে ঘিরে দিতে হবে যাতে ব্যাঙ, সাপ বা অন্য রাক্ষুসে মাছ ঢুকতে না পারে। উপরেও পাখি থেকে রক্ষার জন্য জালের ব্যবস্থা করা ভালো।
২. নার্সারিতে লালন-পালনের সময়সীমা
চিংড়ির জাত এবং পোনার আকারের ওপর ভিত্তি করে নার্সারিতে রাখার সময় ভিন্ন হয়:
| চিংড়ির ধরন | নার্সারিতে রাখার সময় | লক্ষ্য |
| বাগদা চিংড়ি (PL) | ১৫ থেকে ২১ দিন | পিএল (PL-15) থেকে জুভেনাইল অবস্থায় নেওয়া। |
| গলদা চিংড়ি (PL) | ২৫ থেকে ৪০ দিন | পোনা যখন ২-৩ ইঞ্চি লম্বা হয় তখন মূল ঘেরে ছাড়া। |
টিপস: পোনা যখন খোলস পাল্টানো শুরু করে এবং পরিবেশের সাথে পুরোপুরি মানিয়ে নেয়, তখনই সেগুলো মূল ঘেরে স্থানান্তরের উপযুক্ত সময়।
৩. নার্সারি ব্যবস্থাপনায় কিছু জরুরি কাজ
মজুদ ঘনত্ব: প্রতি শতাংশে ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ পিএল (PL) পোনা ছাড়া যেতে পারে। তবে এরটর (Aerator) থাকলে সংখ্যা আরও বাড়ানো যায়।
খাবার প্রয়োগ: নার্সারিতে উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ (৩৫-৪০% প্রোটিন) পাউডার বা ক্রাম্বল ফিড দিনে ৪ বার দিতে হবে।
পানি পরিবর্তন: নার্সারির পানি দ্রুত নষ্ট হয়, তাই ৫-৭ দিন অন্তর ১০-২০% পানি পরিবর্তন করা ভালো।
ভিটামিন-সি: পোনার ধকল কমাতে খাবারের সাথে ভিটামিন-সি মিশিয়ে দিতে পারেন।
৪. মূল ঘেরে স্থানান্তরের নিয়ম
নার্সারি থেকে পোনা ধরার সময় খুব সাবধান থাকতে হবে। ভোরে বা সন্ধ্যায় যখন তাপমাত্রা কম থাকে, তখন পোনা ধরে মূল ঘেরে ছাড়ুন। ছাড়ার আগে মূল ঘেরের পানির তাপমাত্রার সাথে পোনার পাত্রের পানির তাপমাত্রা খাপ খাইয়ে নিতে ভুলবেন না।

