Tuesday, 29 September, 2026

টবে ডাটা শাক চাষ


ডাটা (Amaranth) চাষ রবি (শীতকালে) ও খরিফ (গ্রীষ্মকালে) উভয় মৌসুমে শাক-সবজি হিসেবে করা যায়। টবে ডাটা শাক চাষ করলে জৈব পদ্ধতিতে শাক পাওয়া যায়।

ডাটায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন-এ, বি, সি, ডি এবং ক্যালসিয়াম ও লৌহ বিদ্যমান। ডাটার কাণ্ডের চেয়ে পাতা বেশি পুষ্টিকর। খুব কম সবজিতে এত পরিমাণে বিভিন্ন প্রকার ভিটামিন ও খনিজ লবণ থাকে।

বপন সময়ঃ খরিফ মৌসুম (মার্চ-এপ্রিল) ও রবি মৌসুম (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর)।

আরো পড়ুন
পুষ্টিগুণে অনন্য ‘ব্রকলি’: সঠিক চাষ পদ্ধতি ও আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনা
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ব্রকলি চাষের সঠিক ও আধুনিক পদ্ধতি

বাংলাদেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম ‘ব্রকলি’। দেখতে সবুজ ফুলকপির মতো এই সবজিটি অত্যন্ত পুষ্টিগুণসম্পন্ন এবং সুস্বাদু। একসময় ব্রকলি কেবল Read more

তীব্র সার সংকট, পথ অবরোধ, তিস্তা-ব্রহ্মপুত্রের চরে রেকর্ড আগাম চাষাবাদ

চলতি বছর রংপুর অঞ্চলে প্রধান প্রধান নদ-নদীতে বড় ধরনের কোনো বন্যা না হওয়ায় চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়নি। Read more

ডাটা শাকের জন্য টবের মাটি তৈরি

টবে ডাটা শাক চাষ পদ্ধতি তে মাটি তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ছাদ বাগানের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বেলে-দোঁআশ মাটি। মাটির সংগে মিশাতে হবে পচা গোবর সার, পাতা পচা সার, কাঠ পোড়ানো ছাই, সরিষার খৈল, নিম খৈল, টিএসপি,পটাশ, পাথর চুন।

কোন সার কি পরিমানে মিশাতে হবে

তিন ভাগ মাটির সংগে একভাগ পচা গোবর। হিসেবের সুবিধার্থে তিন বস্তা মাটির হিসাব তুলে ধরলাম। এই রেশিওতে যার যতটুকু প্রয়োজন মাটি প্রস্তুত করে নিবেন ।

তিন বস্তা মাটির সংগে গোবর সার এক বস্তা , পাতা পচা সার (যদি থাকে) অর্ধেক বস্তা, কাঠ পোড়ানো ছাই (যদি থাকে) ১কেজি, সরিষার খৈল ২৫০গ্রাম, নিম খৈল ৫০ গ্রাম টিএসপি ১০০ গ্রাম , মিউরেট অব পটাশ ১০০ গ্রাম এবং পাথর চুন ৫০গ্রাম ।

টবের আকার:

টবে ডাটা শাক চাষ করলে টবের আকার সঠিক হওয়া প্রয়োজন। কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ কেজি মাটি ধরে এমন টব, ড্রাম বা সিমেন্টের বস্তায় আপনি শাকের চারা লাগাতে পারেন। শাকের চারা মূলত বীজ থেকে তৈরি ।

ডাটা শাক

ডাটা শাকে কি সার প্রয়োগ করবেন ?

রোপণের সময় প্রয়োগ কৃত জৈব সার এর বাইরে ও নিয়মিত জৈব সার প্রয়োগ করতে হবে অপরদিকে রাসায়নিক সার প্রয়োগ ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয় ।

এছাড়া গাছের অবস্থা দেখে মাঝে মাঝে জৈব সার গাছের গোড়ার ৬” ইঞ্চি দূরে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। টবের গাছের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় তরল সার ব্যবহার করলে।

তরল সার তৈরির জন্য ২০০ গ্ৰাম সরিষার খৈল অথবা ৫০০ গ্ৰাম পরিমাণ শুকনো গোবর ২ লিটার পানিতে মিশিয়ে দুই দিন রেখে দিতে হবে। এরপর ঐ তৈরি করা তরল সার টবে প্রয়োগ করুন।

প্রয়োগের সময় গাছের গোড়া থেকে অন্তত ৬-৮” ইঞ্চি দূরে তরল সার টি প্রয়োজন মত ঢেলে দিন । এই তরল সার প্রতি মাসে দুইবার প্রয়োগ করলে ফলন বেশ ভালো হবে।

রোগবালাই দমন:

ডাটা শাক গাছের রোগ বালাই দমন করতে বেশ কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। সাধারনত প্রায় সব ধরনের গাছে রোগ বালাই হয়ে থাকে। এখানে ডাটা শাক গাছের রোগ বালাই দমনের প্রাকৃতিক পদ্ধতি আলোচনা করা হলো।

জৈব কীটনাশক প্রয়োগ:

ডাটা শাক গাছের রোগ বালাই দমন করতে জৈব কীটনাশক ব্যবহার করতে পারেন। জৈব কীটনাশক গুলো মানুষের জন্য একেবারেই ক্ষতিকর নয়।

এই ধরনের কীটনাশক নিম পাতা সেদ্ধ করে বা গাঁদা ফুলের পাতার রস থেকে তৈরি করা যায়। এছাড়া নিমের তেল স্প্রে করেও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে কীট পতঙ্গ দমন করা সম্ভব।

বর্তমানে বাজারে নিমের তেল কিনতে পাওয়া যায়। ডাটা শাক গাছের রোগবালাই দমন।

ছত্রাক দমনে করনীয়:

ডাটা শাক গাছে মাঝে মধ্যেই গোড়ায় পচন জাতীয় সমস্যা দেখা দিতে পারে । সেক্ষেত্রে গাছের গোড়ায় শুকনো ছাই প্রয়োগ করতে হবে। ছাই ডাটা শাক গাছকে ছত্রাকের আক্রমণ থেকে রক্ষা করবে।

এগুলো ছাড়াও অধিকাংশ রোগবালাই থেকে আপনার টবের গাছটিকে বাঁচাতে চাইলে কিছু পরিমাণ শুকনো নিমপাতা গাছের গোড়ায় দিয়ে রাখুন এটি অধিকাংশ পোকা মাকড় কে দূরে রাখতে সাহায্য করবে।

ডাটা সংগ্রহ ও পরবর্তী করণীয়:

ভালো স্বাদ পাওয়ার জন্য পাতা নরম বা মোলায়েম অবস্থায় শাক সংগ্রহ করতে হবে। কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকলে ৫-৭ দিন পর শাক সংগ্রহ করতে হবে।

0 comments on “টবে ডাটা শাক চাষ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ