জাতীয় সংসদে কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, ভর্তুকি এবং কৃষকদের জন্য গৃহীত নতুন পদক্ষেপগুলো তুলে ধরেছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশীদ। বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি উৎপাদনে গতি আনতে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার এ পর্যন্ত ১৬ হাজার ২৪০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদান করেছে।
বিনামূল্যে নয়, ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ
সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সারা দেশের কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ পর্যন্ত কৃষকদের মাঝে ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ করা সারের পরিমাণ:
ইউরিয়া: ২৬ লক্ষ মেট্রিক টন
টিএসপি: ৯.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন
এমওপি: ১০.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন
ডিএপি: ১৬.৮৫ লক্ষ মেট্রিক টন
প্রান্তিক কৃষকদের জন্য নগদ ২৫০০ টাকা প্রণোদনা
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সরকার একটি বিশেষ ‘প্রি-পাইলটিং’ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মন্ত্রী জানান, ‘কৃষক কার্ড’ ব্যবহারের মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের সার, বীজ ও অন্যান্য উপকরণের জন্য মাথাপিছু ২,৫০০ টাকা করে নগদ প্রণোদনা প্রদান করা হবে।
কৃষি পুনর্বাসন ও ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ
সংসদ সদস্য রেজা আহমেদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “সরকার কৃষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।”
কৃষি পুনর্বাসন: চলতি অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা খাতের জন্য ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার মধ্যে ৪০১ কোটি টাকা ইতিমধ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে উপকৃত হচ্ছেন ২৫ লক্ষ ২২ হাজার কৃষক।
ঋণ মওকুফ: নির্বাচনী অঙ্গীকার রক্ষায় ক্ষুদ্র কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত (সুদসহ) কৃষি ঋণ মওকুফের কাজ চলছে। ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার এই কর্মসূচির আওতায় দেশের প্রায় ১২ লক্ষ কৃষক সরাসরি সুবিধা পাচ্ছেন।
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচি
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘স্বেচ্ছায় খাল খনন কর্মসূচি’র আদলে দেশব্যাপী ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কৃষিমন্ত্রী জানান, এই বৃহৎ প্রকল্পের ফলে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি পাবে এবং দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।

