Saturday, 07 February, 2026

মাছের জন্য প্রথম ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন সিকৃবির শিক্ষক


বাংলাদেশে মাছের জন্য প্রথম ভ্যাকসিন উদ্ভাবিত হয়েছে। আর মাছের জন্য প্রথম ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) এক শিক্ষক। মাছের ব্যাকটেরিয়াজনিত একাধিক রোগের প্রতিষেধক হিসেবে এই ভ্যাকসিন কাজ করবে। েএকইসাথে মৃত্যুহার কমিয়ে উৎপাদন বাড়াবে বলে আশা এর উদ্ভাবক এর।

সিকৃবির মৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন এই ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেন।

২০১৬ সাল থেকে মাছের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা করেছেন

আরো পড়ুন
বারি’র নতুন মহাপরিচালক আতাউর রহমান
বারি’র নতুন মহাপরিচালক আতাউর রহমান

কৃষি বিজ্ঞানী ড. মুহাম্মদ আতাউর রহমান বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের(বারি) নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয় জারি করা আদেশে Read more

কৃত্রিম পদ্ধতিতে ইলিশ চাষে সরকারের কোনো অনুমোদন নেই: মন্ত্রণালয়
ইলিশ চাষের অনুমতি দেয়নি সরকার

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইলিশ মাছের ইনডোর বা কৃত্রিম পরিবেশে চাষ নিয়ে যে আলোচনা চলছে, তার কোনো Read more

২০১৬ সাল থেকে মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন নিয়ে গবেষণা করছেন।

এই অধ্যাপক জানান, এরোমোনাস হাইড্রোফিলা নামে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হয় মাছ।

এতে মাছের ক্ষত রোগ, পাখনা পচাসহ বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়।

প্রতি বছর এ কারণে প্রচুর মাছ মারা যায়।

তবে মাছের ভ্যাকসিন নিয়ে এই উপমহাদেশে তেমন কাজ হয়নি।

আব্দুল্লাহ আল মামুন তার উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের নাম দিয়েছেন বায়োফ্লিম।

উদ্ভাবক আরও জানান, সিকৃবির গবেষণাগারে কিছু পাঙ্গাশ মাছের শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রবেশ করান তারা।

আর এতে ৮৪ শতাংশ সফলতা পেয়েছেন তারা।

এটি প্রয়োগ করা হবে এরপর মাঠ পর্যায়ে।

আগামী বছরের মার্চ মাস থেকে সিলেটের বিভিন্ন পুকুরের মাছে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হবে।

কয়েকটি পুকুরও নির্ধারণ করা হয়েছে এর মধ্যে।

মাঠ পর্যায়ে প্রয়োগে সফলতা পেলে উদ্যোগ নেয়া হবে বাণিজ্যিক উৎপাদনের।

উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে মাছকে খাওয়ানো হবে।

উদ্ভাবক বলেন, এই ভ্যাকসিন ব্যাপক আকারে উৎপাদনের সক্ষমতা বর্তমানে তাদের নেই।

বাংলাদেশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সে এই গবেষণা কাজে সহযোগিতার জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

সিলেট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, এই অঞ্চলের বেশিরভাগ মাছই ক্ষত রোগে আক্রান্ত হয়।

বাইরের অনেক দেশে মাছের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয়।

কিন্তু আমাদের দেশে এখনও শুরু হয়নি।

কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের বিষয়টি এই মৎস্য কর্মকর্তা জানেন না বলে জানান।

তবে মাছের ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করা গেলে উৎপাদন অনেক বাড়বে বলে তিনি জানা্ন।

সিকৃবির মৎস্য অনুষদ সূত্রে জানা যায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মাছের জন্য ২৮ ধরনের ভ্যাকসিন বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যবহার হয়।

এ ধরনের ভ্যাকসিন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো উদ্ভাবন হয়েছে।

এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা যাবে স্বাদুপানিতে চাষযোগ্য মাছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমান হাওলাদার বলেন, বাংলাদেশে মাছ উৎপাদন হয় প্রায় ৪০ লাখ টন।

মাছ উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

তবে মাছের বিভিন্ন রোগের কারণে মড়ক দেখা দেয় যাতে চাষি ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ২৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয় এই গবেষণার জন্য।

এই টাকায় কেনা হয়েছে আধুনিক যন্ত্রপাতি।

0 comments on “মাছের জন্য প্রথম ভ্যাকসিন উদ্ভাবন করেছেন সিকৃবির শিক্ষক

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ