
প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর মানুষের হাত নেই, কিন্তু সঠিক প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটা কমিয়ে আনা সম্ভব। বিশেষ করে বন্যা বা আকস্মিক জলাবদ্ধতার সময় এবং পরবর্তী সময়ে কৃষকদের সচেতন থাকা জরুরি। নিচে দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তী কৃষি ব্যবস্থাপনার মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
১. দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতি ও সম্পদ রক্ষা
উপকরণ সংরক্ষণ: বন্যার পানি বাড়ার আভাস পাওয়া মাত্রই বীজ, রাসায়নিক সার এবং কৃষি যন্ত্রপাতি বাড়ির সবচেয়ে উঁচু ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে ফেলুন।
আখের যত্ন: আখের জমি প্লাবিত হওয়ার আগেই গাছের গোড়ায় মাটি দিয়ে শক্ত করে বেঁধে দিন। স্রোতের আঘাত থেকে বাঁচাতে জমির আইলে ধনচে বুনে দেওয়া যেতে পারে।
২. বিকল্প বীজতলা ও চারা উৎপাদন
ভাসমান বীজতলা: প্লাবিত এলাকায় উঁচু জায়গা না পাওয়া গেলে কলাগাছের ভেলা বা চাটাইয়ের ওপর মাটি দিয়ে ভাসমান বীজতলা তৈরি করুন।
বসতবাড়িতে চারা: টব, কাঠের বাক্স, কাটা ড্রাম বা পুরোনো টিনে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো ও বেগুনের চারা আগাম উৎপাদন করে রাখা যায়।
তুলা চাষ: পলিব্যাগে তুলার চারা তৈরি করে রাখুন, যাতে পানি নামার সাথে সাথে রোপণ করা যায়।
৩. বন্যার সময় ও পরবর্তী পরিচর্যা
পলি অপসারণ: বন্যার পানি নেমে গেলে চারার পাতায় লেগে থাকা পলি পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে দিন।
শূণ্যস্থান পূরণ: পচে যাওয়া বা নষ্ট হওয়া জায়গায় জমির ভালো অংশের সুস্থ চারা এনে রোপণ করুন।
আগা ছাঁটাই: চারা একটু বড় হলে পাতার আগার ৮-১০ সেন্টিমিটার কেটে বালাইনাশক স্প্রে করুন। এতে রোগের প্রকোপ কমে।
সার প্রয়োগ: বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠতে ইউরিয়া ও পটাশ সার ব্যবহার করুন। তবে সবজি জমিতে রস বেশি থাকলে মাটি আলগা করে শুকনো ছাই মিশিয়ে দেওয়া ভালো।
৪. দ্রুত ফসল উৎপাদনের কৌশল
বিনা চাষে আবাদ: পানি নামার সাথে সাথেই জমি চাষের অপেক্ষা না করে ডিবলিং পদ্ধতিতে ভুট্টা, সরিষা, খেসারি বা মাসকলাই বপন করা যায়। এছাড়া গিমাকলমি ও লালশাকের মতো স্বল্পমেয়াদী সবজি চাষ করুন।
পাটের বীজ: পাটের ডগা কেটে মাটিতে পুঁতে দিয়ে ‘নাবী’ পদ্ধতিতে উন্নত মানের বীজ উৎপাদন করা সম্ভব।
৫. ফলদ বাগানের যত্ন
নিকাশ ব্যবস্থা: ফলের চারার গোড়ায় জমে থাকা পানি দ্রুত বের করে দিতে নালা তৈরি করুন।
সাপোর্ট: গাছ হেলে পড়লে মাটি দিয়ে সোজা করে খুঁটির সাথে বেঁধে দিন। মাটি শুকালে প্রয়োজনীয় সার প্রয়োগ করুন।
বিশেষ পরামর্শ: যেকোনো দুর্যোগে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে এবং সঠিক সারের মাত্রা জানতে আপনার নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করুন। সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপই পারে আপনার কষ্টের ফসল রক্ষা করতে।

