Sunday, 20 September, 2026

ফরিদগঞ্জে ‘সোনালি আঁশ’ এখন সোনালি অতীত? আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা


চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা একসময়  ছিল পাটের জন্য বিখ্যাত। চারপাশে দেখা যেত পাটের খেত, আর নদী-খাল-পুকুরে চলত পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ। বাতাসে ভাসত পাটের চেনা গন্ধ। কিন্তু সেই দিন এখন যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট একসময় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। অথচ নানা প্রতিবন্ধকতায় কৃষকেরা এই ফসল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

কৃষি অফিসের হিসাব বলছে, পাট চাষের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু কৃষকদের দাবি বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, পাট চাষের খরচ বাড়ছে, কিন্তু ন্যায্যমূল্য মিলছে না। সার, বীজ ও সরকারি প্রণোদনা থেকেও তারা বঞ্চিত। উপরন্তু, কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ায় তাদের আগ্রহ কমছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, “গত বছর এক একর জমিতে পাট চাষ করেছিলাম, কিন্তু এ বছর কমিয়ে ৭০ শতকে করেছি। কৃষি প্রণোদনা ও সঠিক পরামর্শ না পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছি।” একই সুরে কথা বলেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, গত বছর পোকার আক্রমণে অনেক পাট নষ্ট হয়েছিল, কিন্তু কৃষি অফিসের কোনো সহযোগিতা পাননি। আরেক কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “৩০ বছর ধরে পাট চাষ করছি। এবার মাত্র দুই একর জমিতে চাষ করেছি। এখন শ্রমিকের মজুরি ৬০০ টাকা। খরচ অনুযায়ী পাটের দাম পাই না। লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হয়।”

আরো পড়ুন
গুদামে উপচে পড়া সার, মাঠে হাহাকার: ত্রুটিপূর্ণ বিতরণ ব্যবস্থায় জিম্মি আমন চাষিরা

সারাদেশে মাঠপর্যায়ে আমন ধানের আবাদ পুরোদমে চলছে। এই সময়ে কৃষকদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ইউরিয়াসহ অন্যান্য সার। সরকারি তথ্যমতে, দেশে সারের Read more

বাড়তি দাম ও পর্যাপ্ত মজুতে ২০২৩-২৭ মেয়াদে গম আমদানি ১১% কমার পূর্বাভাস
বিশ্ববাজারে দাম বৃদ্ধি ও দেশে পর্যাপ্ত মজুদের কারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশে গম আমদানি ১১% কমে ৬৬ লাখ টনে নামার পূর্বাভাস দিয়েছে USDA

বিশ্ববাজারে চড়া দাম, বাজারে পর্যাপ্ত মজুদ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অনিশ্চয়তার কারণে আগামী ২০২৬-২৭ বিপণন বছরে বাংলাদেশে গম আমদানি ১১ Read more

একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের চেয়ে পাটের আবাদ অনেক কমে গেছে।

তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার জানান, “গত বছর ১৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ১৪৫ হেক্টর থাকলেও আবাদ হয়েছে ১৪৭ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ টন। আমরা কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আরও আগ্রহী করার চেষ্টা করছি।”

কৃষি কর্মকর্তার এই বক্তব্যের সাথে কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ফারাক অনেক। এখন দেখার বিষয়, ফরিদগঞ্জে পাটের সুদিন আবার ফিরিয়ে আনা যায় কিনা।

0 comments on “ফরিদগঞ্জে ‘সোনালি আঁশ’ এখন সোনালি অতীত? আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ