Thursday, 04 December, 2025

ফরিদগঞ্জে ‘সোনালি আঁশ’ এখন সোনালি অতীত? আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা


চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা একসময়  ছিল পাটের জন্য বিখ্যাত। চারপাশে দেখা যেত পাটের খেত, আর নদী-খাল-পুকুরে চলত পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর কাজ। বাতাসে ভাসত পাটের চেনা গন্ধ। কিন্তু সেই দিন এখন যেন হারিয়ে যাচ্ছে। ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট একসময় দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হতো, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত। অথচ নানা প্রতিবন্ধকতায় কৃষকেরা এই ফসল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

কৃষি অফিসের হিসাব বলছে, পাট চাষের পরিমাণ বাড়ছে, কিন্তু কৃষকদের দাবি বাস্তব চিত্র ভিন্ন। তাদের অভিযোগ, পাট চাষের খরচ বাড়ছে, কিন্তু ন্যায্যমূল্য মিলছে না। সার, বীজ ও সরকারি প্রণোদনা থেকেও তারা বঞ্চিত। উপরন্তু, কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ না পাওয়ায় তাদের আগ্রহ কমছে।

স্থানীয় কৃষক আব্দুল মতিন বলেন, “গত বছর এক একর জমিতে পাট চাষ করেছিলাম, কিন্তু এ বছর কমিয়ে ৭০ শতকে করেছি। কৃষি প্রণোদনা ও সঠিক পরামর্শ না পাওয়ায় পাট চাষে আগ্রহ হারাচ্ছি।” একই সুরে কথা বলেন কৃষক আব্দুর রাজ্জাক। তিনি জানান, গত বছর পোকার আক্রমণে অনেক পাট নষ্ট হয়েছিল, কিন্তু কৃষি অফিসের কোনো সহযোগিতা পাননি। আরেক কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “৩০ বছর ধরে পাট চাষ করছি। এবার মাত্র দুই একর জমিতে চাষ করেছি। এখন শ্রমিকের মজুরি ৬০০ টাকা। খরচ অনুযায়ী পাটের দাম পাই না। লাভ তো দূরের কথা, লোকসান গুনতে হয়।”

আরো পড়ুন
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নিশ্চিত করতে হবে

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ও অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিশ্চিত করতে সকলকে একসাথে Read more

কৃষি অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড: স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে ১১ জনকে সম্মাননা!
কৃষি অ্যাগ্রো অ্যাওয়ার্ড: স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ও চ্যানেল আইয়ের যৌথ উদ্যোগে ১১ জনকে সম্মাননা!

কৃষিতে বিশেষ অবদানের জন্য আটজন ব্যক্তি ও তিনটি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দিয়েছে বহুজাতিক স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক (এসসিবি) এবং চ্যানেল আই। সারাদেশে Read more

একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের চেয়ে পাটের আবাদ অনেক কমে গেছে।

তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার জানান, “গত বছর ১৪৫ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা ১৪৫ হেক্টর থাকলেও আবাদ হয়েছে ১৪৭ হেক্টর জমিতে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৪৫ টন। আমরা কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের আরও আগ্রহী করার চেষ্টা করছি।”

কৃষি কর্মকর্তার এই বক্তব্যের সাথে কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতার ফারাক অনেক। এখন দেখার বিষয়, ফরিদগঞ্জে পাটের সুদিন আবার ফিরিয়ে আনা যায় কিনা।

0 comments on “ফরিদগঞ্জে ‘সোনালি আঁশ’ এখন সোনালি অতীত? আগ্রহ হারাচ্ছেন কৃষকেরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সাম্প্রতিক লেখা

আর্কাইভ