
সম্প্রতি জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এতে রাজশাহীর কৃষকদের কাছ থেকে সবজি কেনা কমানো শুরু করেছেন আড়তদার ও ব্যবসায়ীরা। অথচ এপ্রিল মাস সাধারণত সবজির মৌসুম—ফলন ভালো হলেও দাম কমেছে পাইকারি বাজারে।
জ্বালানি তেলের নতুন দাম
সরকার গত রোববার থেকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। নতুন দর অনুযায়ী:
ডিজেল: লিটারপ্রতি ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ১১৫ টাকা
কেরোসিন: ১১২ টাকা থেকে বেড়ে ১৩০ টাকা
অকটেন: ১২০ টাকা থেকে বেড়ে ১৪০ টাকা
পেট্রল: ১১৬ টাকা থেকে বেড়ে ১৩৫ টাকা
এই বাড়তি দাম সরাসরি প্রভাব ফেলেছে পণ্য পরিবহনে।
পরিবহন খরচ কত বেড়েছে?
রাজশাহীর পাবা উপজেলার নওহাটা হাট থেকে সবজি নিয়ে ঢাকার কারওয়ান বাজারে যান ব্যবসায়ীরা। জসনা এন্টারপ্রাইজের মালিক সুজন আলী জানান, রাজশাহী-ঢাকা রাউন্ডট্রিপের ভাড়া আগে ছিল ২৩-২৪ হাজার টাকা। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭-২৮ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতি ট্রাকে বাড়তি ৪-৫ হাজার টাকা।
তিনি আরও বলেন, “এখন ১০০ কেজি পটল পরিবহনে খরচ হচ্ছে ৩০০ টাকা, যেখানে আগে ছিল ২২০ টাকা। ফলে আড়তদাররা কম কিনছেন, সবজির দাম কমছে, আর লোকসান গুনছেন কৃষক। সবকিছু স্থিতিশীল থাকলেও কৃষক কম দাম পাচ্ছেন।”
সিলেট ও চট্টগ্রামে পরিবহন খরচও বেড়েছে প্রতি ট্রাকে প্রায় ১০ হাজার টাকা।
পাইকারি বাজারে দাম কমেছে যেসব সবজিতে
নওহাটা হাটের পাইকারি বাজারে গত কয়েক দিনে দাম কমেছে নিচের সবজিগুলোতে:
| সবজি | আগের দাম (প্রতি কেজি) | বর্তমান দাম (প্রতি কেজি) |
|---|---|---|
| পটল | ৬০ টাকা | ৪৫ টাকা |
| ঢেঁড়স | ২০ টাকা | ১২ টাকা |
| আলু | ১৫ টাকা | ৮ টাকা |
| পেঁয়াজ | ২৫ টাকা | ২০ টাকা |
| লাউ | ২০ টাকা | ১২ টাকা |
পটল প্যাকিংকারী ব্যবসায়ী বুলবুল জানান, ঢাকায় প্রতিটি বস্তা পাঠাতে আগের চেয়ে ৬০-৮০ টাকা বেশি খরচ হচ্ছে।
কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত
স্থানীয় কৃষক ইলিয়াস বলেন, “মাত্র দুই-তিন দিন আগেও পটল ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। আজ আমি বিক্রি করলাম ৪৫ টাকায়। একই অবস্থা ঢেঁড়সের। আড়তদাররা কম কিনছেন, দাম পড়ে গেছে।”
কৃষকেরা দাবি করছেন, উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এখন লোকসান গুনতে হচ্ছে তাঁদের।
কৃষি বিপণন কর্মকর্তার বিশ্লেষণ
রাজশাহীর সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, “জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে সামগ্রিক ব্যসয় বেড়েছে। পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁরা কৃষকের কাছ থেকে কম সবজি কিনছেন, যার ফলে পাইকারি বাজারে দাম পড়ে যাচ্ছে।”
পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা
পরিবহন খরচ আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে আগামী দিনগুলোতে কৃষকের লোকসান আরও বাড়তে পারে। ইতিমধ্যে উৎপাদন মৌসুমে এসে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকেরা বিকল্প বাজার খুঁজছেন। তবে কেউ কেউ সবজি না কেটে জমিতেই রেখে দিতে চাচ্ছেন, যা গুণগত মান নষ্ট করতে পারে।

