
জয়পুরহাটের কৃষকরা এখন বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ করে ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। অল্প সময়ে ও কম খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় প্রচলিত অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি এই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু ফল চাষে তাদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে এ অঞ্চলের উৎপাদিত রসালো লাল স্ট্রবেরি এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালপুর, চান্দা ও কালিবাড়ি গ্রামে ব্যাপক হারে স্ট্রবেরি চাষ করা হয়েছে। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে লাল টুকটুকে স্ট্রবেরি। কৃষকদের এই অসামান্য আগ্রহের কারণে এলাকার লোকমুখে গ্রামগুলো এখন ‘স্ট্রবেরি ভিলেজ’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
কৃষকরা জানান, অল্প সময়ে উৎপাদন ও অধিক মুনাফা পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এ বছর বেশি পরিমাণ জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছেন তারা। ইতিমধ্যে জমি থেকে স্ট্রবেরি সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বাজারে ন্যায্য দাম পাওয়ায় কৃষকদের মাঝে দেখা দিয়েছে সন্তুষ্টির হাসি। লাভজনক এই ফল চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করছে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জয়পুরহাট জেলায় মোট ১৩ হেক্টর জমিতে স্ট্রবেরি চাষ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ক্ষেত থেকেই প্রতি কেজি স্ট্রবেরি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সারাদেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে এসব গ্রাম থেকে ট্রাকে করে স্ট্রবেরি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় কালিবাড়ি গ্রামের চাষী হারুন হোসেন নিজের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘গত চার-পাঁচ বছরের তুলনা করলে এ বছর বাজারে স্ট্রবেরির দাম অনেক ভালো। তাই আগের বছরের তুলনায় এবার আমরা বেশ লাভের মুখ দেখব বলে আশা করছি।’
চাষের খরচ ও মুনাফা প্রসঙ্গে চান্দা গ্রামের কৃষক হাফিজার রহমান হিসাব কষে বলেন, ‘এক বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করলে সার, সেচ, শ্রমিকসহ যাবতীয় খরচ বাদ দিয়েও সহজেই দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করা সম্ভব।’
জয়পুরহাটে আসা পাইকারি ক্রেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘এখানকার স্ট্রবেরির মান খুবই ভালো। আমি পাবনা থেকে এসেছি। এখান থেকে কিনে আমরা পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছি।’
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জয়পুরহাটের উপ-পরিচালক এ. কে. এম. সাদিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে আসছি, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ও পর্যাপ্ত পরিমাণে স্ট্রবেরি উৎপাদন করতে পারেন। পরিপক্ব অবস্থায় এ অঞ্চলের স্ট্রবেরি বেশ রসালো ও সুস্বাদু হয়। গুণগত মান ভালো হওয়ায় বাজারে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।’

