
ঘূর্ণিঝড় ও ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত আলুচাষিদের কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোল্ডস্টোর মালিক সমিতি (বিসিএসএ)।
গত ২৫ মার্চ কৃষি মন্ত্রণালয়ে প্রেরিত এক চিঠিতে সংগঠনটি জানায়, মার্চের প্রথমার্ধে সংঘটিত ঘূর্ণিঝড় ও অতি বর্ষণ রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, ঠাকুরগাঁও, গাইবান্ধা, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও পঞ্চগড়ের মতো প্রধান আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলোর ব্যাপক ক্ষতি করেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আলু সংগ্রহের সময় পানিবন্দি হয়ে পড়ায় মাঠে থাকা আলু এবং এখনো তোলা হয়নি—এ রকম ফসলই ব্যাপকভাবে নষ্ট হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত আলুগুলো শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গুদামে সংরক্ষণের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সমিতির অনুমান, এসব জেলায় প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর আলুচাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬৭৫ কোটি টাকা। এছাড়া পানিবন্দি জমিতে আলু তুলতে না পেরে অনেক কৃষকই ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
যেসব কৃষক আলু তুলতে সক্ষম হয়েছেন, তারাও লোকসানের শিকার হচ্ছেন। নিম্নমানের কারণে এসব আলু সংরক্ষণের অনুপযোগী হওয়ায় তারা বর্তমান বাজারমূল্যের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম—প্রতি কেজি মাত্র ৫ থেকে ৬ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, আলু উৎপাদনে প্রতি কেজির গড় খরচ প্রায় ১৬ টাকা। সে হিসেবে কৃষকদের উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম মূল্যে আলু বিক্রি করতে হচ্ছে, যা তাদের চরম আর্থিক সংকটে ফেলেছে।
চিঠিতে ২০২৫ সালের আলু উৎপাদনের প্রসঙ্গ টেনে সংগঠনটি জানায়, ওই বছর দেশে আলুর উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ১২ লাখ টন, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ২২ লাখ টন বেশি। অতিরিক্ত উৎপাদনের কারণে কৃষকরা ৮ থেকে ১২ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করতে বাধ্য হন, যা উৎপাদন ব্যয়ের চেয়েও কম ছিল। এতে তাদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়।

