উৎপাদিত নিরাপদ শাকসবজি, ফলমূল ও ফুল বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে গুণগতমান নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে উৎপাদিত নিরাপদ কৃষিপণ্য বিদেশের বাজারে রপ্তানি আমাদের জন্য গৌরবের, তবে এই অবস্থান ধরে রাখতে মান নিয়ন্ত্রণে কোনো আপস করা চলবে না।
গতকাল শনিবার (২ মে) দিনাজপুরে বিএডিসি আয়োজিত ‘পলিশেডে উৎপাদিত ফসলের গুণগতমান রক্ষার কলাকৌশল’ বিষয়ক এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
টেকসই কৃষিতে ‘পলিশেড’ মডেল
মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন ‘পলিশেড নির্মাণ প্রকল্প’টি দেশের কৃষি ব্যবস্থাপনায় একটি আধুনিক সংযোজন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা ও পরিবেশে পানিসাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন করা হচ্ছে, যা টেকসই কৃষির পথ প্রশস্ত করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে দেশের ক্যাপসিকাম ও জারবেরা
অনুষ্ঠানে প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহবুব আলম জানান, পলিশেড হাউজে ড্রিপ ও মিস্ট ইরিগেশন পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে উৎপাদিত ফসল সম্পূর্ণ পোকামাকড়মুক্ত ও নিরাপদ হচ্ছে। এসব পণ্য স্থানীয় বাজার ও রাজধানীর সুপার শপগুলোর চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে পলিশেডে উৎপাদিত ক্যাপসিকাম ও জারবেরা ফুল বিদেশের বাজারে প্রশংসা কুড়াচ্ছে।
কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্ব
সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, “রপ্তানি বাড়াতে হলে কৃষকদের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজারজাতকরণের আধুনিক কলাকৌশল সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। এই ধরনের প্রশিক্ষণ কৃষকদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং তারা আন্তর্জাতিক মানের পণ্য উৎপাদনে সক্ষম হবে।”
প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে বিএডিসির প্রধান প্রকৌশলী (সেচ), নির্বাহী প্রকৌশলী (দিনাজপুর) সহ স্থানীয় কৃষক, উদ্যোক্তা এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

