
সারি সারি জলপাইয়ের স্তূপ, ওজন মাপা, বাছাই এবং বস্তাবন্দী করে ট্রাকে তোলার কাজে মুখর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলা এলাকা। দেবীগঞ্জের দেবদারুতলায় জমে উঠেছে উত্তরবঙ্গ তথা দেশের অন্যতম বৃহৎ জলপাইয়ের মৌসুমি হাট। প্রতিদিন এই হাটে ১৪০ থেকে ২০০ টন জলপাই কেনাবেচা হচ্ছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় অর্ধকোটি টাকা।
দিনাজপুর টিভির এক প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছর অক্টোবর মাস থেকে শুরু হয়ে জানুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এই হাটে জলপাই কেনাবেচা চলে। পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী থেকে কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জলপাই নিয়ে আসছেন দেবদারুতলার এই বাজারে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকারেরা সরাসরি এখানে এসে জলপাই কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
কৃষক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি
হাটে জলপাই বিক্রি করতে আসা দেবীগঞ্জের পূর্ব দেবী এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, এবারই প্রথমবারের মতো তিনি নিজের গাছের জলপাই হাটে এনেছেন এবং একটিমাত্র গাছের জলপাই বিক্রি করেই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো দাম পেয়েছেন।
একইভাবে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকারদের পদচারণায় হাটের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। চট্টগ্রাম থেকে আসা এক পাইকারি ব্যবসায়ী জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচামালের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। উত্তরবঙ্গের এই বৃহৎ বাজার থেকে তিনি নিয়মিত ৮ থেকে ১২ টন জলপাই কিনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করছেন।
দুই শতাধিক শ্রমজীবীর কর্মসংস্থান
জলপাইয়ের এই সরগরম বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে দেবদারুতলা হাটে দুই শতাধিক স্থানীয় শ্রমজীবীর কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক জলপাই বাছাই, পরিষ্কার ও ট্রাকে বোঝাইয়ের কাজ করছেন। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জলপাই বাছাই ও বোঁটা ছাড়িয়ে প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন সাবিত্রী দাসের মতো বহু শ্রমজীবী নারী।
হিমাগার ও স্থান সংকটের দাবি
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেবীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে প্রায় তিন হেক্টর জমিতে জলপাই চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এই বাণিজ্য স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
তবে হাটে জলপাই সংরক্ষণের জন্য কোনো হিমাগার (Cold Storage) না থাকায় কেনাবেচার পরপরই দ্রুততম সময়ে কাঁচা ফল ট্রাকে করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে হয়। এতে কিছুটা ঝুঁকিতে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কৃষকেরা হাটের সীমানা সম্প্রসারণ এবং সরকারি উদ্যোগে একটি হিমাগার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশাসনের আশ্বাস
ব্যবসায়ী ও কৃষকদের দাবির বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিত সাহা জানান, হাটের জায়গা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে অবৈধ দখল উচ্ছেদে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে জলপাই সংরক্ষণে একটি হিমাগার স্থাপনের উদ্যোগ হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

