Wednesday, 11 March, 2026

দেশি মুরগীর খামার

Ratan asked 6 years ago

একজন উদ্যোগ নিয়ে দেশি মুরগির খামার করতে চায়।দেশি মুরগির খামার কিভাবে শুরু করা যায়? দেশি মুরগির খামার পরিকল্পনা চাই?

2 Answers

agrobd24.com পক্ষ থেকে আপনাকে স্বাগতম। ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি  দেশি মুরগির খামার নিয়ে আমাদের দক্ষ ডিভিএম টিম কাজ করছেন। খুব শীঘ্রই আমরা দেশি মুরগির খামার ব্যবস্থাপনা আপনাদের সামনে তুলে ধরব। 

এগ্রোবিডি২৪ Staff answered 2 weeks ago

দেশি মুরগির খামারের চাহিদা বাংলাদেশে সবসময়ই তুঙ্গে। কারণ, সাধারণ মানুষ ব্রয়লার বা লেয়ারের চেয়ে দেশি মুরগির স্বাদ ও পুষ্টিগুণকে বেশি গুরুত্ব দেয়। একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি প্রকল্প হতে পারে।

নিচে একটি পূর্ণাঙ্গ দেশি মুরগি খামার পরিকল্পনা তুলে ধরা হলো:

১. খামারের ধরন নির্বাচন

শুরুতেই ঠিক করতে হবে আপনি কোন পদ্ধতিতে মুরগি পালন করবেন:

  • সম্পূর্ণ মুক্ত পদ্ধতি: মুরগি সারাদিন বাইরে চড়ে বেড়াবে। খরচ কম, কিন্তু উৎপাদনও কম।

  • অর্ধ-আবদ্ধ পদ্ধতি (সেরা উপায়): মুরগির জন্য একটি ঘর থাকবে এবং সামনে ঘেরা দেওয়া খালি জায়গা থাকবে। এতে মুরগি প্রাকৃতিক খাবারও পাবে আবার নিরাপদও থাকবে।

২. বাসস্থান বা ঘর নির্মাণ

  • স্থান: উঁচুজায়গা বেছে নিন যেখানে পানি জমে না এবং পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করে।

  • জায়গার পরিমাণ: বড় মুরগির জন্য প্রতিটিতে গড়ে ১.৫ থেকে ২ বর্গফুট জায়গা লাগে।

  • ঘরের ধরন: পূর্ব-পশ্চিম লম্বালম্বি ঘর বানাতে হবে যাতে সরাসরি রোদ ভেতরে না ঢোকে কিন্তু আলো থাকে। মেঝে পাকা হলে ভালো, তবে কাঁচা হলে বালু ও তুষ ব্যবহার করতে হবে।

৩. জাত ও বাচ্চা সংগ্রহ

দেশি মুরগির মধ্যে সাধারণ দেশি ছাড়াও হিলী, আসিল বা নগ্ন গলা (Naked Neck) জাত জনপ্রিয়।

  • সবচেয়ে ভালো হয় যদি বিশ্বস্ত কোনো খামারি বা সরকারি হ্যাচারি থেকে ১ দিনের বাচ্চা সংগ্রহ করেন।

  • শুরুতে ১০০-২০০টি বাচ্চা নিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করা বুদ্ধিমানের কাজ।

৪. খাদ্য ব্যবস্থাপনা

দেশি মুরগির প্রধান সুবিধা হলো এরা যা পায় তাই খায়। তবে বাণিজ্যিক লাভের জন্য সুষম খাবার প্রয়োজন:

  • প্রাকৃতিক খাবার: চালের কুঁড়া, গমের ভূষি, খুদ, সরিষার খৈল এবং শাকসবজি।

  • রেডি ফিড: দ্রুত বৃদ্ধির জন্য স্টার্টার ফিড দেওয়া যেতে পারে।

  • মুক্ত চারণ: দিনে কয়েক ঘণ্টা বাইরে ছাড়লে তারা পোকা-মাকড় ও ঘাস খেয়ে প্রোটিনের চাহিদা মেটায়।

৫. রোগ প্রতিরোধ ও টিকা (ভ্যাকসিন)

দেশি মুরগির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি হলেও ভাইরাসের আক্রমণে খামার খালি হয়ে যেতে পারে। তাই একটি ভ্যাকসিন চার্ট মেনে চলতে হবে:

  1. রানিখেত (BCRDV): বাচ্চার বয়স ৩-৫ দিন এবং ২১ দিনে।

  2. গামবোরো: বাচ্চার বয়স ১০-১২ দিন এবং ১৮-২০ দিনে।

  3. বসন্ত (Pox): ৩৫-৪০ দিনে।

প্রাথমিক বিনিয়োগ ও লাভ-ক্ষতির একটি নমুনা (১০০ মুরগির জন্য)

আইটেমবিবরণআনুমানিক খরচ (টাকা)
বাচ্চা ক্রয়১০০টি (৫০-৬০ টাকা দরে)৫,০০০ – ৬,০০০
ঘর তৈরিবাঁশ, নেট ও টিন দিয়ে অস্থায়ী৫,০০০ – ৭,০০০
খাবার খরচ৪ মাস পর্যন্ত (প্রতিটি ৩ কেজি ফিড)১৫,০০০ – ১৮,০০০
ওষুধ ও ভ্যাকসিনআনুমানিক১,০০০ – ১,৫০০
মোট খরচ২৬,০০০ – ৩২,০০০

সম্ভাব্য আয়: ৪-৫ মাস পর প্রতিটি মুরগির ওজন গড়ে ৮০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি হলে এবং ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলে মোট আয় হবে প্রায় ৪০,০০০ – ৪৫,০০০ টাকা। (বাকি মুরগি ডিমের জন্য রাখলে আয় আরও বাড়বে)।

একজন নতুন উদ্যোক্তার জন্য ৩টি বিশেষ পরামর্শ:

  1. একবারে বড় ঝুঁকি নেবেন না: প্রথমে ৫০-১০০টি মুরগি দিয়ে শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জন করুন।

  2. বায়োসিকিউরিটি: খামারে বাইরের মানুষ বা অন্য প্রাণী ঢোকা বন্ধ রাখুন। ঢোকার মুখে পটাশ পানির স্প্রে রাখুন।

  3. বাজারজাতকরণ: স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অনলাইন বা পরিচিত মহলে “অর্গানিক” বা “সম্পূর্ণ দেশি” হিসেবে ব্র্যান্ডিং করুন।

জনপ্রিয় লেখা